বেডরুম সাজানোর জন্য ৩০টি সুন্দর ডিজাইনের ধারনা

Updated: Nov 12, 2020


আপনার বাসায় নি:সন্দেহে বেডরুম সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা।এমনকি আপনার বেডরুমে হয়তো আপনার অনেক অতিথিরা কখনো যায় নি,তবুও বেডরুম সুসজ্জিত করা প্রয়োজন।এখানে আপনি নিজের মত করে সময় কাটান,বিশ্রাম নেন,বই পড়েন।তাই বেডরুমে সঠিক রং,ডিজাইন এবং ফার্নিচার বাছাই করা উচিত।এসব হয়তো কঠিন মনে হতে পারে,কিন্তু অসম্ভব নয়।যদি আপনি আপনার বেডরুমকে সঠিকভাবে সাজাতে চান,তাহলে এই ৩০ টি ডিজাইন,পরামর্শ ও সাজানোর কৌশল আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনি আপনার বেডরুমকে আরামদায়ক ও সুসজ্জিত করে তুলতে পারবেন।

ডেকোরেটিভ ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন

অনেকসময় দেয়ালে বেশি গাঢ় রং করলে সেটা মানানসই হয় না,কিন্তু একটা সাধারণ হালকা রং রুচিশীল হতে পারে।দেয়ালে ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন যা ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।


২.ঝুলানো বাতি:


নিউইয়র্কের ডিজাইনার 'নিকোলে ফুলার' বিছানার দুইপাশে দুটি ঝুলানো বাতি লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।যখন আপনি বিলাসবহুল বেডরুম সাজাতে চাইবেন তখন এগুলো সাহায্য করবে এবং বিছানার উপরের গ্রাফিক আর্ট ভালভাবে ফুটে উঠবে।বাতিগুলো লাগানোর ফলে আপনার আলাদাভাবে টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।


৩.হেডবোর্ড:


বেডরুমে ডিজাইন করা একটা হেডবোর্ড প্রয়োজন।অবশ্যই সঠিক রং এবং ডিজাইন বাছাই করতে হবে।এটা দেয়ালকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।



৪.প্রাকৃতিক উপাদান:

বেডরুমে প্রাকৃতিক গাছ রাখতে পারেন

বেডরুমে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বেলকনিতে কাঁচের দরজা দিতে পারেন।এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান,যেমন-ফুলদানিতে ফুল,ঝিনুকের শোপিস চমৎকার অনুভূতি সৃষ্টি করবে।



৫.প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র:

শোবার ঘরে সুন্দর ড্রেসিংটেবিল রাখতে পারেন

একটা বেডরুম বাসার মধ্যে সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা।তাই এটা সঠিকভাবে সাজানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।একটা ভাল খাট,তোষক,বিনোদনের জন একটা টিভি,দেয়ালে একটা সুন্দর ছবি লাগিয়ে রাখতে পারেন।


৬.রঙিন নকশা:


রঙিন চিত্রাঙ্কন বাচ্চাদের ঘরে,রান্নাঘরে দেখা যায়।কিন্তু এটা বড়দের জন্যও নতুনত্ব যোগ করতে পারে এবং রুচিশীল উপাদান হতে পারে।একটা চকবোর্ডে সুন্দর ডিজাইন করতে পারেন এবং মনের কথা লিখে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেন।


৭.জানালার পর্দা:

বেডরুমে সুন্দর পর্দা ব্যবহার করতে পারেন

জানালার পর্দা ছাড়া কখনোই একটা বেডরুম পুরোপুরি গোছানো সম্ভব নয়।জানালায় ভাল মানের,সঠিক রং এবং ডিজাইনের পর্দা ব্যবহার করুন।



৮.আসবাবপত্র সাজানো:


একটা বড় বেডরুমের স্বপ্ন সবারই থাকে।কিন্তু শুধু বড় বেডরুম হলেই হবে না,ঘরের সাজসজ্জাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।ঘরের আসবাবপত্রগুলো সঠিক স্থানে রাখতে হবে যাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো- বাতাস আসতে পারে।


৯.বিলাসবহুল সজ্জা:

বিছানায় সুন্দর চাদর ব্যবহার করতে পারেন

বাসার মধ্যে বেডরুমেই মানুষের বেশিরভাগ সময় কাটে।এখানে আপনি আপনার পছন্দমত সবকিছু সাজাতে পারেন।বিছানায় একটা দামী চাদর,কাঁথা এবং আরামদায়ক বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।এছাড়া বিভিন্ন শৌখিন জিনিসপত্র দিয়ে আপনার বেডরুমের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে পারেন।


১০.বিভিন্ন বাতির ব্যবস্থা:

বিভিন্ন বাতির ব্যবস্থা

বেডরুমে শুধু উপরে একটা বাতি থাকলে সেটা খুব বিরক্তিকর।আপনি অল্প আলোর বাতি লাগাতে পারেন এবং ঘরের অন্যান্য জায়গায় আপনার পছন্দমত বাতি লাগাতে পারেন।


১১.হালকা রঙের ব্যবহার:

ঘরে হালকা রং ব্যবহার করতে পারেন

ছোট বেডরুমে আবদ্ধতার অনুভূতি দূর করার জন্য সহজ উপায় হলো ঘরে হালকা রং ব্যবহার করা।ঘরে সাদা এবং বাদামি রং দিয়ে সাজালে ঘরটা খোলামেলা মনে হবে এবং দমবন্ধ অনুভূতি হবে না।



১২.হেডবোর্ডে নতুনত্ব যোগ করা:


আপনি যদি সব জিনিসে তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যান,তাহলে সৃজনশীল হেডবোর্ড হিসেবে পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।এটা আপনি আপনার ইচ্ছামত প্রতিবছর পরিবর্তন করতে পারবেন।আপনি রঙিন পর্দাও ব্যবহার করতে পারবেন।


১৩.শৈল্পিক ছোঁয়া:


ঘরে শিল্পের সাজসরঞ্জাম এক অন্য মাত্রা যোগ করে।যেমন- শৈল্পিক ভাস্কর্য,খোদাই করা নকশা,নকশাকরা ফুলদানি ইত্যাদি।


১৪.সঠিক রং:


আপনি আপনার বেডরুমের সবকিছু আরামদায়ক চান,ঘরের রং এর ব্যতিক্রম নয়।যদি আপনি উজ্জ্বল রং পছন্দ করেন,তাহলে এমন রং বাছাই করুন যেটা ঘরে স্নিগ্ধ এবং শান্ত ভাব এনে দিবে।অর্গানিক রং ব্যবহার করতে পারেন।নীল এবং গাঢ় বাদামি রং দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন।


১৫.আর্ট:

বিছানার উপর সুন্দর পেইন্টিং রাখতে পারেন

পুরো ঘরে আর্ট করার প্রয়োজন নেই।একটা সুন্দর আর্টই যথেষ্ট।একটা পেইন্টিং বেডরুমের আবহই বদলে দেয়।



১৬.নিজের ছবি রাখা:


আপনার বাসার বিভিন্ন রুমে আপনার পারিবারিক অনেক ছবি থাকে,কিন্তু আপনার বেডরুমে আলাদা কিছু ছবি রাখুন।আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রিয় কিছু ছবি রাখুন।এমন কোন ছবি রাখবেন না যা আপনাকে পুরনো কোন দু:খের স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে।


১৭.বেডরুম সঠিকভাবে সাজানো:


বেডরুম সঠিকভাবে সাজানো উচিত।অতিথিদের বেডরুমও সুন্দরভাবে সাজানো প্রয়োজন।পরিষ্কার বিছানা,ভাল তোষক,বালিশ,সুন্দর চাদর রাখতে হবে।ফুলদানিতে কিছু ফুলও রাখতে পারেন।


১৮.ফুল দিয়ে সাজানো:


ছোট্ট একটা ফুলদানি ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে

যদিও আর্ট,পেইন্টিং,শৌখিন জিনিসপত্র ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে,তবুও ফুল ঘরে এক ধরনের মনোরম পরিবেশ তৈরি করে।রঙিন ফুলগুলো আপনার মন ভাল করে দিতে পারে।তাই বিছানার পাশে ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখুন।


১৯.কাজের জায়গা:

ঘরের এক কোণে কাজের জায়গা রাখতে পারেন

বেশিরভাগ ডিজাইনার বেডরুমে অফিস বা ব্যবসার কাজ করতে নিষেধ করেন।কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেকসময়ই বেডরুমে বসে কাজ করা হয়।তাই আপনার ঘরে কাজের একটা নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করুন।সেটা যেন যতটা সম্ভব আপনার বিছানা থেকে দূরে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।


২০.একটা সুন্দর আয়না:

ঘরে একটা সুন্দর আয়না ব্যবহার

আয়না হলো একটা চমৎকার ডিজাইন উপাদান।এটা যেকোন জায়গাকে বড়,উজ্জ্বল এবং অসাধারণ করে তুলতে পারে।আপনি আয়না ঝুলিয়ে রাখতে পারেন অথবা সাধারণভাবে দেয়ালের সাথে রেখে দিতে পারেন।


২১.আরামদায়ক কার্পেট:

সুন্দর কার্পেট ব্যবহার

ঠান্ডা এবং শক্ত মেঝে আপনার সুন্দর সকালটা নষ্ট করে দিতে পারে।আপনি ভাল মানের একটা সুন্দর ও আরামদায়ক কার্পেট কিনুন।সেটা যেন অবশ্যই মসৃণ,আড়ম্বরপূর্ণ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।


২২.জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে রাখা:


আপনার খাটের শেষপ্রান্তে কোন জিনিস সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।যেমন-স্টিলের ট্রাংক সাজিয়ে রাখতে পারেন।আবার আপনার প্রয়োজন হলে সেটা সহজে সরিয়েও নিতে পারেন।


২৩.চমকপ্রদ জিনিসপত্র:


সুন্দর,উজ্জ্বল বেডরুমেও অন্ধকার,আকর্ষণীয় উপাদান প্রয়োজন।সামঞ্জস্য হলো মূল বিষয়।কিছু চমকপ্রদ জিনিস রাখুন।একটা চমৎকার ছবির ফ্রেম এবং অসাধারণ কিছু শোপিস রাখতে পারেন।



২৪.বালিশ:


বিছানায় কয়টি বালিশ রাখবেন-যতগুলো বালিশ রাখলে বিছানা সুন্দর দেখা যায় এবং ভালভাবে গোছানো যায়।অনেক বেশি রাখবেন না,তাহলে বিছানা এলোমেলো মনে হবে।সাধারণত বিছানার সাইজের উপর নির্ভর করে দুই থেকে চারটা বালিশ রাখতে পারেন।


২৫.ঘুমানোর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা:


"বেডরুমে ঘুমানো হয়।ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন দূরে রাখবেন"-বলেছেন অরেলিয়েন গেলেট।এসময় টেলিভিশনও বন্ধ রাখবেন।এর ফলে,আপনি শান্তিপূর্ণভাবে ঘুমাতে পারবেন।আপনার ঘরে এমন আসবাবপত্র ও জিনিস রাখবেন যেগুলো আপনি ভালবাসেন।


২৬.বসার জায়গা:

ঘরের সুন্দর বসার জায়গা তৈরি করতে পারেন

বসার জন্য ভাল জায়গা তৈরি করুন,যেখানে আপনি বই পড়তে পারবেন অথবা আপনার সঙ্গীর সাথে বসে গল্প করতে পারবেন।এখানে বসে আপনি আপনার ইমেইলগুলোও দেখতে পারবেন।


২৭.প্রিয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করা:


বেডরুমে এমন কিছু জিনিস রাখুন যেগুলো দেখে আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠবে,বেডরুমকে যথার্থ সুন্দর মনে হবে।আপনার পছন্দের বিছানার চাদর,প্রিয় কিছু পেইন্টিং সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।


২৮.আরামদায়ক তোষক:


একটা আরামদায়ক তোষক খুব গুরুত্বপূর্ণ।আপনার বিছানার সাথে মানানসই তোষক বাছাই করুন।এটা যেন দেখতে সুন্দর ও ব্যবহারে আরামদায়ক হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।


২৯.শেলফ:


আপনি শেলফে আপনার প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে পারেন।এতে জিনিসপত্র খোঁজার জন্য আপনার সময় নষ্ট হবে না এবং সহজেই হাতের নাগালে সবকিছু পেয়ে যাবেন।বিভিন্ন ডিজাইনের শেলফ রয়েছে।আপনি আপনার ঘরের সাথে মানানসই সঠিক রং এবং ডিজাইনের শেলফ বাছাই করুন।


৩০.থিম:


সাধারণত শিশুরা তাদের বেডরুমে সবকিছু মিলিয়ে সাজাতে চায়,বড়রা এভাবে সাজাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।কিন্তু এভাবে থিম আকারে সাজালে সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় সাধন হয় এবং প্রশান্ত ভাব আসে।যেমন-দেয়ালের রং,বিছানার চাদর,জানালার পর্দা একই রং এবং ডিজাইনের তৈরি করা।









731 views0 comments

5-MinsSolution

Contact us

Tel: +8801713221592

Dhaka, Bangladesh

  • Facebook

Follow us on Facebook