ছাদ বাগান করতে কি কি করা লাগবে?

Updated: Nov 2, 2020

আপনার বাড়িতে যদি ছোট করে বাগান করতে চান; সেটা হতে পারে ফুলের, ফলের বা সবজির বাগান তাহলে আজকের প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।


কোন ধরনের বাগান করবেন তা নির্বাচন করুন :


প্রথমে আপনি আপনার খালি জায়গায় কি ধরনের বাগান করবেন তা নির্বাচন করুন। বাগান হতে পারে শাক সবজির বাগান, শুধু ফলের বাগান অথবা ফুলের বাগান।শাকসবজির বাগানে আপনি মরিচ, টমেটো, গাজর, ফুলকপি এবং বিভিন্ন ধরনের শাক চাষ করতে পারেন।আপনি যদি ফুলের বাগান করতে চান, তাহলে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে, যেমন: বাগানে ফুলের সারি কিভাবে সাজাবেন, কোন মৌসুমে ফুল লাগাচ্ছেন।

আপনি যদি ফলের বাগান করতে চান সেক্ষেত্রে অনেক ধরনের দেশীয় ফল লাগাতে পারেন; তা হচ্ছে আম, পেঁপে, লিচু, পেয়ারা, কাঁঠাল, জামরুল ইত্যাদি।

শাক সবজির বাগান এবং ফুলের বাগানে একটা পার্থক্য হচ্ছে শাকসবজির বাগানে মাটির উর্বরতা বেশি প্রয়োজন হয় এবং একটু খেয়াল বেশি রাখতে হয়, অন্যদিকে ফুলের বাগানে মাটির উর্বরতা এত না হলেও তেমন অসুবিধা হবে না এবং খুব বেশি খেয়াল রাখার প্রয়োজন হয় না।

বাগানে কোন ধরনের গাছ লাগাবেন তা নির্বাচন করুন:


বাগান করার ক্ষেত্রে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন আপনি বাংলাদেশের কোন বিভাগে আছেন; আপনি যদি উত্তরবঙ্গের দিকে থাকেন তাহলে মাথায় রাখতে হবে সেখানে একটু শীত এবং গরম দুটোই বেশি পড়ে। আপনি যদি ঢাকার দিকে থাকেন তাহলে মাথায় রাখতে হবে ঢাকার আবহাওয়ার কথা এবং আপনি যদি দক্ষিণবঙ্গের দিকে থাকেন তাহলে মাথা রাখতে হবে সেখানে সবসময় নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকে।


বাগান করার ক্ষেত্রে যদি আবহাওয়া বুঝে গাছ লাগান,সেক্ষেত্রে বাগানের কোয়ালিটি অনেক ভালো হবে, ফুল ও ফলের উৎপাদনও ভালো হবে।


বাগান করার ক্ষেত্রে আপনার এলাকায় কোন ধরনের গাছ বা শাকসবজি ভালো হবে এক্ষেত্রে যদি আপনার ধারণা কম থাকে তাহলে আপনি আপনার এলাকার যেকোনো নার্সারি থেকে সাধারণভাবে একটা প্রাথমিক ধারণা নিতে পারবেন।


বাগানের ভিতর নির্দিষ্ট জায়গা নির্বাচন করুন:


বাগান করার ক্ষেত্রে এমন জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে পানি যাওয়ার ভালো ব্যবস্থা থাকে। বাগান করার ক্ষেত্রে এমন জায়গা কখনোই নির্বাচন করবেন না যেখানে বৃষ্টি পড়লে প্রচুর পানি জন্মায়। পানি জমাট বাধলে সহজেই গাছ মারা যেতে পারে।


আপনি যদি শাক সবজির বাগান করতে চান তাহলে এমন জায়গা নির্বাচন করুন, যেখানে ডিরেক্ট সূর্যের আলো পড়ে এবং এমন জায়গা নির্বাচন করবেন না যেখানে গাছের ছায়া অনেক বেশি। ফুলের ক্ষেত্রে এমন অনেক ফুল আছে অল্প ছায়াতে ভালো জন্মায়।


আপনার যদি বাগান করার জায়গা না থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি বাসার ছাদে অথবা বারান্দায় বড় প্লাস্টিকের পাত্রে বা মাটির পাত্রে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং ফুলের বাগান করতে পারেন তবে খেয়াল রাখবেন সূর্যের আলো যেনো ঠিকমত পারে।

বাগানের ডিজাইন :


আপনি যে জায়গায় বাগান করবেন সে জায়গার একটা ডিজাইন আপনি খাতায় সুন্দর করে সাজাতে পারেন। আপনার বাগান করার জায়গা যদি খুব বড় হয়, সে ক্ষেত্রে বাগানের একটা লেআউট সুন্দর করে সাজালে বাগান টা দেখতে সুন্দর দেখাবে। ফলের গাছ লাগালে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ফলের গাছ গুলো লাগাতে হবে। ফলের গাছ খুব বেশি ঘন হলে, এতে ফলন কম হয়।আপনি যদি শাক সবজির বাগান করেন; তাহলে খেয়াল রাখতে হবে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।ফুলের বাগান করতে চাইলে একটা সুন্দর লেআউটের প্রয়োজন হবে; যেন বাগানে ফুল ফুটলে বাগানের সৌন্দর্য অনেক বেশি শোভা পায়।আপনি যে ধরনের বাগান করুন না কেন খেয়াল রাখতে হবে সহজেই যেন বাগানে পর্যাপ্ত পানির সুব্যবস্থা থাকে।


বাগান করতে যেসব সামগ্রী প্রয়োজন:


প্রথমত আপনার বাগানে যে ধরনের গাছ লাগবে ,সে ধরনের গাছ নার্সারি থেকে কিনতে হবে অথবা গাছের বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আপনার বাগানের প্রয়োজনমতো গোবর সার, এবং জৈব সার দিয়ে বাগানের মাটি প্রস্তুত করতে পারেন। আপনি জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ও ব্যবহার করতে পারেন; তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে মুরগির বিষ্ঠা তিন থেকে চার মাস যেন খোলা জায়গায় পঁচতে দেওয়া হয় যাতে মুরগির বিষ্ঠার নাইট্রোজেন গ্যাস বের হয়ে যায়।বাগানে পানি দেওয়ার জন্য পানি একটা পাইপ দরকার হতে পারে যেন আপনি সুবিধামতো পানি দিতে পারেন ।বাগান মেইনটেইন করার জন্য কোদাল, শাবল এবং গাছের ডাল পাতা কাটার জন্য নিড়ানি ,কাঁচি লাগতে পারে। আপনার বাগান যেন গরু-ছাগল নষ্ট না করে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন মতো বাগানের চারপাশে নেটের বেষ্টনী দিতে হতে পারে।


বাগানের মাটি প্রস্তুত:


বাগান তৈরি করার ক্ষেত্রে বাগানের মাটি প্রস্তুত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আপনি একটি কোদাল দ্বারা বাগানের মাটি গুলো কোপানোর ব্যবস্থা করুন। খেয়াল রাখবেন যেন বাগানের মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং বারো ইঞ্চি পর্যন্ত বাগানের মাটি ঝুরঝুরে থাকে। মাটিতে বড় ধরনের পাথর,কোন গাছের শেকড় এবং অন্য কোন ধরনের শক্ত পদার্থ থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন।আপনার বাগানের গাছ পালা কেমন বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করে আপনার মাটির কোয়ালিটির উপর। তাই বাগানের মাটির কোয়ালিটি টেস্ট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার বাগানের মাটির পিএইচ লেভেল যদি সাতের কম হয় তার মানে হচ্ছে মাটিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেশি এবং এক্ষেত্রে মাটিতে লাইমস্টোন ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে যদি মাটিতে পিএইচ এর লেভেল সাত এর চেয়ে বেশি হয় ,তার মানে হচ্ছে বাগানে মাটিতে ক্ষারের পরিমাণ খুব বেশি,এক্ষেত্রে আপনি আপনার মাটিতে সালফার ব্যবহার করতে পারেন।সালফার এবং লাইমস্টোন আপনি যেকোন সিডস্টরে পাবেন।বাজার থেকে কিনে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার মাটিতে ব্যবহার করবেন না। অতিরিক্ত সার মাটির পিএইচ লেভেলের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। তাই রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মোড়কে নির্দেশনা অনুযায়ি ব্যবহার করা ভালো।


বাগানে চারা রোপন:

বাগানের মাটি প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনি আপনার পছন্দমত গাছের চারা অথবা শাক সবজির চারা রোপন করতে পারেন।বাগানের চারা বা বীজ রোপন করার পরও প্রয়োজনমতো জৈব এবং রাসায়নিক সার দিতে পারেন।

বাগানে প্রয়োজনমতো পানি দেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে।

সর্বশেষ বাগানে কোন আগাছা জন্মালে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে


আপনার বাড়িতে যদি ছোট্ট একটি বাগান থাকে এতে করে আপনার বাড়ীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং সব দিক থেকে একটা মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হবে।




আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে, দোয়া করে শেয়ার দিন এবং আমাদের পেজ এ লাইক দিন যেন প্রতিনিয়ত আর্টিকেল দেখতে পারেন।


https://www.facebook.com/5minssolution/








111 views0 comments

Recent Posts

See All