দম্পতির মাঝে চারটি প্রতিক্রিয়া:সমালোচনা,অবজ্ঞা,প্রতিবাদ এবং বিদ্রোহ।

Updated: Nov 3, 2020

পরিবারে দম্পতির মাঝে ঝগড়া হওয়া নতুন কিছু না। তবে ঝগড়া এমন হওয়া উচিত,যেন পরে সম্পর্ক আবার মধুর হয়ে উঠে। ঝগড়ার ক্ষেত্রেই চারটি প্রতিক্রিয়া অব্শ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

চারটি প্রতিক্রিয়া :সমালোচনা,অবজ্ঞা,প্রতিবাদ এবং বিদ্রোহ।আপনার ঝগড়ার মধ্যে যদি এই চারটি প্রতিক্রিয়া থাকে , তবে তা আমার পারিবারিক সংসারের জন্য খারাপ। তাই সর্বদা চেষ্টা করবেন এই প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলতে। চারটি প্রতিক্রিয়া যা চিহ্নিত করতে পারাই হচ্ছে একটি সম্পর্কের সমস্যাগুলো,স্বাস্থ্যকর আচরনের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নির্মূল করার প্রয়োজনীয় প্রথম পদক্ষেপ।

১.সমালোচনাঃ

প্রথম প্রতিক্রিয়া টি হল সমালোচনা। আপনার সঙ্গীর সমালোচনা না করার চেয়ে তার সাথে বসে বুঝিয়ে মন্তব্য বা অভিযোগ করুন। একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ করুন,অন্যথায় সমালোচনা করা মানে হবে তার প্রতিভা বা গুনের চেয়ে তার চরিত্র নিয়ে কথা বলা, এটি আপনার সঙ্গীর মনোবলে আঘাত করবে।যার কারনে,আপনি যখন তার সমালোচনা করছেন তখন তার মনে আঘাত হানতে পারে ।

এটি যানা জরুরি যে,অভিযোগ করা এবং সমালোচনা করার মধ্যে পার্থক্য কেমন.....


অভিযোগঃ " আমি ভয় পেয়েছিলাম যখন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিলে এবং আমাকে ডাক নি।আমি ভেবেছিলাম আমরা একজন অন্যজনের জন্য দূরে থাকবো না ।"


সমালোচনাঃ "তুমি কখনই চিন্তা করনা তোমার ব্যবহার মানুষের উপর কি প্রভাব ফেলে।আমি বিশ্বাস করতে পারিনা যে তুমি কতটা উদাসীন।তুমি কেবল স্বার্থপর।তুমি কখনই অন্যের কথা ভাবনা! তুমি কখনই আমার কথা ভাবনি!"


যদি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনি এবং আপনার সঙ্গী একে অপরের সমালোচনা করছেন, তবে এটি মনে করবেন না যেন আপনাদের সম্পর্ক মলিন হয়ে গেছে। সমালোচনা করার সমস্যাটি হলো, যখন এটি ব্যাপক হারে হয়,তখন এটি অন্যজনকে বিরুপ পতিক্রিয়ার দিকে তীব্রভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।এই বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তিকে লাঞ্ছিত,প্রত্যাখ্যাত ও আহত করে ।যা অবশেষে অবজ্ঞা বা ঘৃনার দিকে নিয়ে যায়।তাই আপনার সঙ্গীর সমালোচনা না করে একসাথে বসে তার সাথে ভালোভাবে কথা বলা এবং কোন বিষয়টি আপনাকে আঘাত করেছে সেই বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন।


২.অবজ্ঞাঃ

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া হলো অবজ্ঞা বা ঘৃনা।আমরা যখন এমন আচরন করি তখন আসলে আমরা একে অন্যের সাথে অসম্মানজনক আচরন করি।তাদের কটুক্তি,বিদ্রুপ,ঠাট্টা করি।তাদের তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য করে উপাধি দেই।অবজ্ঞা করার লক্ষ্যই হলো ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখা এবং অকেজো হিসেবে প্রমান করা।

অবজ্ঞা সমালোচনাকেও ছাড়িয়ে যায়। সমালোচনা যখন আপনার সঙ্গীর চরিত্রে আঘাত করে, অবজ্ঞা তখন তার নৈতিকতাকেও একই ধরে নেয়।


গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব দম্পতিরা একে অপরের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ন মানষিকতা রাখে তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা কম থাকার কারনে তারা অন্যদের তুলনায় সংক্রামক ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হয়।সঙ্গীর প্রতি দীর্ঘদিন নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা থাকার কারনে অপরাধী অপেক্ষা অভিযুক্তকারী বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অন্যের প্রতি অবজ্ঞার বিষয়টি বিবাহ বিচ্ছেদের দিকেই নিয়ে যায়।তাই অবশ্যই এটি নির্মূল করা উচিত।


৩.প্রতিবাদঃ তৃতীয় প্রতিক্রিয়া হলো প্রতিবাদ,এবং এটি সমালোচনারই একটি ফলাফল।আমরা সকলেই প্রতিবাদী, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সর্বব্যাপী তখনই ঘটে যখন আমাদের সম্পর্কের ভিতগুলো নড়বড়ে থাকে। আমরা অযথা অভিযুক্ত করি এবং মনে করি যে,আমাদের সঙ্গী তার ভুলগুলো কাটিয়ে উঠবে এবং ফিরে আসবে।

দূর্ভাগ্যক্রমে,এই কৌশলটি বেশিরভাগ সময়ই ব্যার্থ হয়।আমাদের প্রকাশভঙ্গি দ্বারা সঙ্গীরা বুঝতে পারে যে আমরা তার চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছিনা এবং তার ভুলের দায় আমরা নেব না।

যদিও এটি সহজ নয় নিজেকে নিপীড়ীত হওয়া থেকে রক্ষা করা,কিন্তু এই কৌশলটি এক্ষেত্রে কোন লাভজনক ফলাফল দিতে পারে না।প্রতিবাদ করা বরং বিবাদকে বাড়িয়ে তুলবে যদি অভিযুক্তকারী এই পথ থেকে সরে না আসে বা ক্ষমা না চায়।কারন প্রতিবাদ করা আপনার সঙ্গীকে দোষী সাব্যস্ত করারই একটি উপায় এবং এটি সু- সম্পর্ক চালিয়ে নেয়ার জন্য বিরোধী হিসেবে কাজ করে।


৪. বিদ্রোহঃ

চতুর্থ প্রতিক্রিয়া হলো বিদ্রোহ, যা সাধারনত অবজ্ঞা বা ঘৃনা থেকে আসে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন তখনই বিদ্রোহ প্রকাশ করে যখন সঙ্গী তার মতামতে কোন আগ্রহ প্রকাশ করে না,চুপ হয়ে যায় এবং সঙ্গীকে সাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়।তারা সঙ্গীর সাথে সমস্যাগুলোর খোলাখুলি আলোচনা করার পরিবর্তে ছলনার আশ্রয় নেয় যেমনঃ এড়িয়ে চলা,মুখ ফিরিয়ে নেয়া,ব্যাস্ত থাকার অভিনয় করা অথবা ক্ষুব্ধ আচরন করে।


প্রথম তিনটি প্রতিক্রিয়া থেকে প্রবল নেতিবাচকতা তৈরি হয় যার ফলে এটি বুঝতে সময় লাগে যে বিদ্রোহ করাটা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।কিন্তু এটি একটি খারাপ অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায় এবং দুর্ভাগ্যক্রমে এটি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ নয়।যখন আমরা দেখব আমাদের এই আচরণটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তখন আমরা এ বিষয়টি নিয়ে যুক্তিযুক্তভাবে আলোচনায় বসতে পারি। এক্ষেত্রে আপনি যদি মনে করেন আপনি সঙ্গীর সাথে মতবিরোধে জড়িয়ে যাচ্ছেন তবে আলোচনাটি বন্ধ করুন এবং বিরতি নিন।


তারপর আপনি একাকি ২০ মিনিট সময় কাটান এবং এমন কিছু করুন যা আপনাকে প্রশান্তি দেয় যেমনঃ বই অথবা ম্যাগাজিন পরুন,হাটতে পারেন,দৌরাতে পারেন,এমন কিছু করুন যা আপনার উত্তেজিত অনুভূতিকে থামিয়ে দিতে সাহায্য করে এবং পুনরায় আপনাকে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত করে।





লিখেছেন: শায়লা শারমিন




আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে, দোয়া করে শেয়ার দিন এবং আমাদের পেজ এ লাইক দিন যেন প্রতিনিয়ত আর্টিকেল দেখতে পারেন।

https://www.facebook.com/5minssolution/





289 views0 comments