বিবাহিত জীবনে কীভাবে সুখী হওয়া যায়?

Updated: Nov 8, 2020

বিয়ের আগে আনন্দ করা এবং রোমান্টিক সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হতে পারে,কিন্তু বিয়ের পর সম্পর্কের প্রাণবন্ত অবস্থা একবার শেষ হয়ে গেলে বিয়ে টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।যাহোক,যদি আপনি বিবাহিত জীবনে সুখী হতে চান,তাহলে রোমান্স বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং আপনার সঙ্গীকে একইসাথে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবেও মূল্যায়ন করতে হবে।যদিও এটা সহজ নয়,আপনি যদি আপনার বিবাহিত জীবন সমৃদ্ধ করতে চান তাহলে আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীকে চেষ্টা করতে হবে।


১.স্বামী-স্ত্রী একে আপরকে সম্মান করা:

একে ওপরের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করুন

যদি আপনি একটি সুন্দর বিবাহিত জীবন চান, তাহলে আপনার স্বামী বা স্ত্রী যেন নিজেকে আপনার সমান ভাবে সেটা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে এবং আপনার কোন সিদ্ধান্ত অথবা আপনি কোথাও যাওয়ার সময় তার সিদ্ধান্ত বা অনুভূতিও গ্রহণ করতে হবে।আপনি আপনার মতামতকে যতটা গুরুত্ব দেন তার মতামতকেও ঠিক ততটাই মূল্য দিবেন এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।আপনি যে তার প্রতি যত্নশীল সেটা যেন সে বুঝতে পারে সেদিকে নজর দিবেন।


আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি সদয়,স্নেহশীল এবং বোধশক্তিসম্পন্ন আচরণ করুন। যদি আপনার একটি খারাপ দিন যায় এবং রুক্ষভাবে কোন জবাব বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন,তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চেয়ে নিন;তাকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিন।আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এটা ভাববেন না,বরং ভাবুন আপনি বিবাহিত জীবনে সুখী থাকতে চান।


*আপনি আপনার সঙ্গীর গোপনীয়তার প্রতি সম্মান করুন।বিনা অনুমতিতে আপনি তার মোবাইল ফোন,চিঠি,ইমেইল,ব্যাংকের কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করবেন না।তাহলে, আপনিও তার কাছ থেকে সম্মান পাবেন।


২.বর্তমান সম্পর্কে সুখী থাকুন:


যদি আপনি সুন্দর এবং স্বাভাবিক একটি সম্পর্ক চান,তাহলে আপনারা উভয়ে অতীতে যেসব ভুল করেছেন সেগুলো এড়িয়ে চলুন।ভুলগুলো মনে না রেখে একে অপরের সাথে ভাল আচরণ করার চেষ্টা করুন,বর্তমান সময়টাকে একসাথে উপভোগ করুন এবং ভবিষ্যতের সুন্দর সম্ভাবনার কথা চিন্তা করুন।আপনি যদি আপনার সঙ্গীর প্রতি সত্যিই যত্নশীল হন,তাহলে সে আপনার অনুভূতি বুঝতে পারবে এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি কখনো করবে না।


*যদিও অতীতকে একেবারে ভুলে যাওয়া সহজ নয়,কিন্তু অতীতকে নিয়ে ঝগড়া করাও উচিত নয়।শুধুমাত্র তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য অতীতের ভুলগুলো মনে রাখা উচিত নয়।



৩.সময় দিন:

একে ওপরের সাথে সময় কাটান

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বোঝার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হল একসাথে সুন্দর সময় অতিবাহিত করা এবং কথা বলা।সঙ্গী কি বলছে সেটা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতে হবে।যখন আপনি তার সাথে কোন বিষয়ে কথা বলবেন,তখন আপনার মোবাইল ফোন দূরে রাখবেন,চোখের দিকে তাকাবেন এবং শোনার জন্য মনোযোগী হবেন।


অবশ্য আমরা মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি।যদি কথাবার্তার সময় এরকম হয়,তাহলে আপনি অনুসরণ করার ভাণ করবেন না,ক্ষমা চাইবেন এবং আপনার সঙ্গী আসলে কি বলছিলেন সেটা বোঝার চেষ্টা করবেন।


মাঝে মাঝে আপনার সঙ্গী কঠিন সময় অতিবাহিত করে।তখন তার কথাগুলো শুনুন এবং তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।সবসময় তাকে উপদেশ শুনতে বাধ্য করবেন না।


৪.গুরুত্ব দেওয়া:

আপনার সঙ্গীকে সবচেয়েবেশি গুরুত্ব দিন

যদি আপনার মনে হয় আপনার জীবনে আপনার সঙ্গীর সাথে থাকার আর প্রয়োজন নেই,তাহলে আপনি মনে করে দেখুন যখন আপনি কেনো আপনার সঙ্গী বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন,আপনারা একে অপরের জীবনকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন।আপনার অবশ্যই সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত এবং কোন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।আপনার এবং একইসাথে আপনার বিবাহিত সঙ্গী উভয়ের জন্য যেটা ভাল হবে আপনি সেটাই করার চেষ্টা করুন।


যদি আপনার পরিবার অথবা বন্ধুরা আপনার সঙ্গীকে পছন্দ না করে,তবু আপনি আপনার সঙ্গীর বিরুদ্ধে চলে যাবেন না।আপনি তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাকে তার প্রাপ্য ভালবাসা,সম্মান ও সমর্থন দিন।


৫.যোগাযোগ বজায় রাখা:

যোগাযোগ বজায় রাখা

যদি আপনার বিবাহিত জীবনে সুখী হতে চান,তাহলে যোগাযোগটাই হল মূখ্য বিষয়। আপনি এবং আপনার সঙ্গী একে অপরের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবেন, আপনাদের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন ।প্রতিদিন এটি করা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাল প্রভাব ফেলে এবং সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস বজায় থাকে, যা বিয়ের সম্পর্ককে সুন্দর ও মজবুত করে।


রাগের বশে আপনার সঙ্গীকে আঘাত করে কিছু বলবেন না। উগ্র শব্দ আপনি বলতে চাননি কিন্তু বলে ফেলেছেন,আপনার সঙ্গীর জন্য এটা ভুলা কঠিন হতে পারে-এই কারণে সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখবেন, ‘The axe forgets, but the tree remebers.’যেটা বলা আপনার উচিত হয়নি কিন্তু বলে ফেলেছেন,সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

যখন মতপার্থক্য হবে আপনার সঙ্গীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবেন না।দৃঢ় যোগাযোগের জন্য,যখন আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে কোন বিষয়ে আলোচনা করবেন,আপনাকে আপনার সঙ্গীর চিন্তা এবং মেজাজ সম্পর্কেও অবগত হতে হবে।আপনার সঙ্গীর অভিব্যক্তিও আপনার বোঝা উচিত যাতে কোনকিছু খারাপ হয়েছে কিনা বুঝতে পারেন। আপনি চেষ্টা করবেন আপনার সঙ্গীর সাথে সবসময় এমনকি কঠিন সময়ও সহানুভূতিশীল থাকতে


মনে রাখবেন যে,আপনার মত আপনার সঙ্গীরও ত্রুটি থাকতে পারে।যদি আপনি ভুল ছাড়া মানুষ আশা করেন,তাহলে দু:খ এবং নিরাশ হবেন ।যদি আপনার সঙ্গীর কোন ত্রুটি থাকে, এই বিষয়ে একটা আন্তরিক ও খোলাখুলি আলোচনা করুন।


দ্বিতীয় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন



লিখেছেন

ফারাহ ফারজানা

আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে, দোয়া করে শেয়ার দিন এবং আমাদের পেজ এ লাইক দিন যেন প্রতিনিয়ত আর্টিকেল দেখতে পারেন।

https://www.facebook.com/5minssolution/


330 views0 comments