সম্পর্কে সহানুভুতিশীল হওয়া কত টা জরুরী

Updated: Nov 2, 2020

আপনি যখন আপনার পার্টনারের সাথে নারাজ থাকেন,তখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে আপনার পার্টনারের সাথে ভালো / সহানুভূতির সাথে ব্যবহার করা। খারাপ মুহূর্তগুলোতে আপনার পার্টনারের সাথে সহানুভূতিশীল থাকা , আপনার সম্পর্কের জন্য খুব বেশি জরুরি। এতে করে সম্পর্কে ঝগড়া হলেও সম্পর্কে তিক্ততা থাকবে না।


আমেরিকার একটা পপুলার ম্যাগাজিনে ‘আটলান্টিক ম্যাগাজিনে’ বলা হয়েছে, যে কোনো সম্পর্কে একে ওপরের প্রতি সদয় থাকা অনেক জরুরি। একে ওপরের প্রতি সহানুভূতি/ উদারতা দেখানোর মানে এই নয় যে আপনি আপনার পার্টনারের সাথে রাগ প্রকাশ করতে পারবেন না। কিন্তু, আপনি যদি আপনার সম্পর্কে সদয় থাকেন তাহলে আপনার কথা দিয়ে আপনার পার্টনারকে তীরের মত আঘাত না করে সুন্দরভাবে বোঝাতে পারবেন, যে আপনি তার কোন ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছেন এবং এতে আপনার সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে আরো মসৃন হয়ে উঠবে । গটম্যান ইনস্টিটিউট রিসার্চ মেথডে বলা হয়েছে , ‘প্রত্যেক যুগলের মধ্যেই ঝগড়া হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক কিন্তু তাদের ঝগড়ার উপর নির্ভর করে তাদের ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ অথবা তিক্ত হবে অর্থাৎ ঝগড়া করলেও ঝগড়ার একটা নিয়ম আছে’

সহানুভুতিশীল হওয়া শুধু আপনার সম্পর্কের জন্য জরুরী তা নয়, আপনি সহানুভুতিশীল হলে আপনার আশেপাশের মানুষ ও আপনার প্রতি সহানুভুতিশীল হবে। আমাদের জীবন এমনিতেই হরেক রকমের ঝামেলা থাকে , তার মধ্যে যদি আপনার পার্টনারও সহানুভুতিশীল না থাকে ,তাহলে ঘরের বাইরের ও ভিতরের দুই জীবনই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।


আপনি যখন এটা কমিটমেন্ট রিলেশনশিপে প্রবেশ করেন অর্থাৎ যখন আপনি বিয়ে করেন, তখন আপনি আপনার পার্টনারের প্রতি এক ধরনের কমিটমেন্ট করেন তা হচ্ছে: আপনি আপনার পার্টনারের পাশে থাকবেন ,বিপদ আপদে সাহায্য করবেন ও সুখ দুঃখে সাথে থাকবেন, কিন্তু এর সাথে সাথে আরেকটা প্রমিস করা উচিত তা হচ্ছে আপনি আপনার পার্টনারের প্রতি সদয়বান থাকবেন ,তা হতে পারে রাগের মুহূর্তে ,কষ্টের মুহূর্তে, বিপদের মুহূর্তে।


পার্টনারকে নিয়ে পসিটিভ চিন্তা করতে শিখুন:


আপনার যখন আপনার পার্টনারের প্রতি প্রচন্ড মেজাজ খারাপ থাকে তখন আপনি আপনার পার্টনারের প্রতি খারাপ চিন্তা গুলো বাদ দিয়ে তার সম্পর্কে ভালো কথা চিন্তা করার চেষ্টা করুন। এটা হয়তো তখন করাটা কঠিন হতে পারে,কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অভ্যাসটা গড়ে তুলুন। একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন আমাদের মানুষের মধ্যে পজিটিভ প্রভাব থেকে নেগেটিভিটির প্রভাব অনেক বেশি । তার উদাহরণ হচ্ছে: মনে করুন আপনি আপনার ব্যবসায় ১০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কিন্তু দুদিন বাবদ আবার আরেক ব্যবসায়ী ২০ হাজার টাকা লাভ করেছেন কিন্তু আপনি খেয়াল করবেন আপনার সেই ১০ হাজার টাকার আফসোস তখনোও যায়নি। আমরা মানুষ এরকম এক জাতি যারা সবসময় খারাপ কে মাথায় রাখি কিন্তু ভালোটাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখি না। তাই এক্ষেত্রে আপনার পার্টনারের প্রতি একটা খারাপ কাজের ক্ষেত্রে আপনি পার্টনারের পাঁচটা ভালো কাজের কথা চিন্তা করবেন।যেমন:

  • আপনার পার্টনার আপনাকে কোথাও ডিনারে নিয়ে গেছে

  • বার্থডেতে সারপ্রাইজ দিয়েছে

  • আপনার সাথে দেখা করার জন্য টাইম ম্যানেজ করেছে

  • ভালো কোথাও ঘুরতে নিয়ে গিয়েছে

  • হয়তোবা আপনার পছন্দের খাবার রান্না করেছে


এই ধরনের ছোটখাটো চেষ্টা গুলো আপনি তখন মাথায় আনার চেষ্টা করবেন, দেখা যাবে যে আপনার মেজাজ কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয়েছে এবং মনের তিক্ততা কিছুটা কমেছে।মাথা ঠান্ডা হলে, আপনি আপনার পার্টনারকে সুন্দর করে বুঝাতে পারবেন,তার কোন কাজটা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে।এতে করে এক অপরকে কথা দিয়ে আঘাত করা হবে না। এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যে এবং সম্পর্ক দুটোর জন্য খুবই ভালো।ধীরে ধীরে আপনার চিন্তাধারারও পরিবর্তন হবে।


সম্পর্কের রেস্পন্সিবিলিটি থাকা কতটা জরুরি:


আপনার যদি আপনার পার্টনারের কোন বিষয়ে আঘাত হন বা কষ্ট পান তখন সাথে সাথে সেই বিষয়ে আলোচনা না করে আপনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন এবং কিছুক্ষণ পর যখন আপনি একটু সাধারণবোধ করবেন তখন আপনি যে বিষয়ে আঘাত পেয়েছেন তা আপনার পার্টনারের সাথে সুন্দর ভাবে আলোচনা করার সৃষ্টি করুন। এটা হয়তো স্বাভাবিক আমরা যখন কোনো বিষয়ে আঘাত পাই, তা সাথে সাথেই আলোচনা করার চেষ্টা করি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এতে আরও বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়।


সম্পর্কে বিশ্বাস রাখার চেষ্টা :


আপনার সম্পর্কে বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করুন। যদি আপনার পার্টনার আপনাকে কোন বিষয়ে কষ্ট দিয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার পার্টনারের সাথে পুরানো দিনের ভালো স্মৃতিগুলো স্মৃতিচারণ করুন। কোনো ব্যাপারে ঝগড়া হলে তা অনেকেই সাথে সাথে সমাধান করতে চায়। কিন্তু এইক্ষেত্রে দেখা যায়, দুইজন পার্টনারের মধ্যে একজন পার্টনার আরেকজনকে অবহেলা করছে বা কথা না শোনার ভান করছে।তখন এই সময়ে ঝগড়া বিষয়ে আলোচনা না করে আপনারা দুজন একসাথে মিলে কিছু এক্টিভিটি করার চেষ্টা করুন তা হতে পারে: একসাথে রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা অথবা মুভি দেখা।একটা সময় পার হওয়ার পরে যখন আপনাদের রাগ কমে যাবে তখন আপনারা আপনাদের ঝগড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।তবে খেয়াল রাখতে হবে নিশ্চয়ই একে অপরের সাথে উদারতা নিয়ে কথা বলা। এমন কোনো কথা না বলা যাতে আপনার পার্টনার খুব বেশি আঘাত পায়। মনে রাখবেন ,একবার বলে ফেলা কথা কখনো ফিরিয়ে নেয়া যায়না।


একে অপরকে এপ্রিশিয়েট করুন:


ছোটখাটো এমন অনেক কিছু আছে যা একে অপরের প্রতি করতে পারেন, এতে করে একে অপরকে যে অ্যাপ্রিশিয়েট করেন তা প্রকাশ পায়। নিজে কিছু উদাহরণ দেওয়া হল:

  • একে অপরকে সকালে ব্রেকফাস্ট এর সময় কাপে চা ঢেলে দিতে পারেন,

  • কোন মুভি সাজেস্ট করতে পারেন, যেটা একসাথে আপনারা দেখতে চান

  • দিনের মাঝখানে কাজের মধ্যে আপনি তাকে একটা টেক্সট মেসেজ দিয়ে জানতে চাইতে পারেন সে কি করছে বা তার দিন কেমন যাচ্ছে

  • একসাথে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করতে চান সেটি পরিকল্পনা করতে পারেন

এতে করে আপনার পার্টনার আপনার প্রতি আরো বেশি ঘনিষ্ঠতা বাড়বে।


একটা জিনিস মনে রাখা খুবই জরুরি, আপনার যে পার্টনার আছে, সে সারা জীবন আপনার পাশে দাঁড়াবার প্রতিজ্ঞা করেছে; তাই যে মানুষটি আপনার জন্য এত বড় একটা প্রতিজ্ঞা করতে পারে তার জন্য সহানুভূতিশীল/উদারতা সবসময় বজায় রাখা উচিত।


আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে, দোয়া করে শেয়ার দিন এবং আমাদের পেজ এ লাইক দিন যেন প্রতিনিয়ত আর্টিকেল দেখতে পারেন।


https://www.facebook.com/5minssolution/





227 views0 comments

5-MinsSolution

Contact us

Tel: +8801713221592

Dhaka, Bangladesh

  • Facebook

Follow us on Facebook