যে ১৬টি বিষয় জীবনে চলার পক্ষে সবার জানা উচিত

Updated: Dec 17, 2020

জীবনে উত্থান-পতন,সুখ-দু:খ,ভাল সময়-খারাপ সময় থাকে।কিন্তু জীবনে যাই হোক না কেন,জীবন কখনো থেমে থাকে না।জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়।একসময় হয়তো আপনার মনে হতে পারে,আপনি কি জীবনে সুখী হয়েছেন অথবা আপনার স্বপ্নগুলো কি পূরণ হয়েছে?সুখ আপেক্ষিক বিষয়।এটা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।আবার সুখের সাথে অনেক বিষয়ও জড়িয়ে থাকে।আমরা আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে চলে যাই যেগুলো জানা প্রয়োজন-

১.আপনার স্বপ্ন অন্য কারো জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়:কিছু মানুষ হয়তো আগ্রহ দেখাবে।কিছু মানুষ আপনাকে সমর্থন করবে।কিন্তু দিনশেষে,কেউ আপনার মত করে ভাববে না অথবা কেউ আপনার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য আপনার মত উৎসাহী হবে না।


২.সব বন্ধুরা সারাজীবন পাশে থাকে না:বেশিরভাগ বন্ধু জীবনে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে।প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে অনেক বন্ধুই চলে যায়।যখন আপনার জীবনে পরিবর্তন আসে অথবা আপনি জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান,তখন বেশিরভাগ বন্ধু চলে যায়।


৩.বয়সের সাথে দক্ষতাও বাড়ে:মানুষের বয়স বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের মনে হতে থাকে,তারা হয়তো আর তেমন কিছু করতে পারবে না।কিন্তু বাস্তবে,তারা অনেক কিছু করতে পারে।কারণ তাদের জ্ঞান বাড়ে।জীবনে উন্নতি করার জন্য প্রতিদিন ভাল অভ্যাস মেনে চলা উচিত।কেউ জন্মগতভাবে শিখে আসে না,চর্চার মাধ্যমে শিখে নিতে হয়।

৪.প্রকৃতির সংস্পর্শে আসলে মন ভাল হয়:আপনি শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজেছেন অথবা নদীর ধারে বসেছেন?যখন আপনি নদীর ধারে বসেছিলেন,তখন পানি,ঘাস,গাছপালা,আকাশ নিবিড়ভাবে দেখেছেন।আবার এটা করুন।তাহলে আপনি জীবনের সৌন্দর্যময়তার সাথে যুক্ত হতে পারবেন।


৫.অনেকেই যেটা করতে ভালবাসে,সেটা করতে পারে না:এটা সত্য।অনেকেই তাদের পছন্দমত জীবনযাপন করতে পারে না।এর কারণ হলো তারা যথেষ্ট প্রচেষ্টা করে না।যখন আপনি বৃদ্ধ হবেন এবং চারপাশে তাকিয়ে দেখবেন,তখন আপনার অনুধাবন হতে পারে,আপনিও তাদের মতই এবং আপনি জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।এরকম হতে দিবেন না।


৬.অনেকেই বই পড়া ছেড়ে দেয়:আপনি কাউকে জিজ্ঞাসা করুন,সে শেষ কবে ভাল একটা বই পড়েছে?আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি,বেশিরভাগ মানুষ বলবে,আমি অনেকদিন ধরে কোন বই পড়ি না।

৭.মানুষ কথা বলে বেশি কিন্তু শুনে কম:খুব হাস্যকর বিষয় হলো দুইজন মানুষ কথা বলার সময় কেউ কারো কথা শুনতে চায় না,শুধু কথা বলতে চায়।ধৈর্য ধরে কথা শোনা উচিত।এটা ভাল একটা অভ্যাস।


৮.চর্চা বা অনুশীলনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়:মানুষ সৃজনশীলতা পছন্দ করে।যদি আপনি আপনার সৃজনশীল ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখতে চান,তাহলে আপনার নিয়মিত চর্চা করতে হবে।এর কোন বিকল্প নেই।


৯.সাফল্যের ধারনা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়:ছোটবেলা আমাদের শেখানো হয়েছে,"সফল হওয়ার জন্য চেষ্টা কর"।এটার মানে আসলে কি?সাফল্য একেকজনের কাছে একেকরকম।আপনি আপনার নিজেরটা নির্ধারণ করুন।

১০.অন্যের মন মানসিকতা পরিবর্তন করা যায় না:বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনি একটি দু:খজনক ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি হবেন-আপনি মানুষকে পরিবর্তন করতে পারবেন না।তারা তাদের মতই থাকবে।মানুষের কথা ও কাজে আপনি চিন্তিত হবেন না।আপনি মানুষের সাথে ভাল আচরণ করুন এবং নিজের মত থাকুন।


১১.সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়:ছোটবেলা হয়তো আপনার মনে হয়েছে,আপনি সবাইকে খুশি করবেন।কিন্তু তা সম্ভব নয়।আপনার নিজের খুশি এবং পছন্দমত জীবন বেছে নিন।


১২.মন থেকে কোন কাজ করা সবচেয়ে বড় অর্জন:ধন সম্পদ বা যেকোন অর্জনের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান হলো ভালবেসে কোন কাজ করা।আপনার মনের কথা শুনুন এবং কাজ করুন।

১৩.নিজেকে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ:যারা নিজেকে এবং নিজের শক্তিমত্তাকে জানতে পারে,তারাই সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌছতে পারে।যারা নিজেকে জানে না এবং কঠোর পরিশ্রম করে না,তারা জীবনে ব্যর্থ হয়।তারা ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারে না।

১৪.যাদের সাথে সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করা হয়,তাদের প্রতিফলন নিজের মধ্যে দেখা যায়:আমরা যাদের সাথে মেলামেশা বা চলাফেরা করি,তাদের অভ্যাস নিজের অজান্তেই ধারণ করে ফেলি।তাই যাদের মধ্যে ভাল গুণাবলী রয়েছে,তাদের সাথে সময় অতিবাহিত করা উচিত।


১৫.বিজয়ী হওয়ার জন্য নিজের উপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন: অনেকেই তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ভয় পায়।তারা নিজেদের সৃজনশীল ও যথেষ্ট যোগ্য মনে করে না।আপনি নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।কোনকিছুই সহজে পাওয়া যায় না।আবার চেষ্টা করলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়।


১৬.মানুষ নিজেকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে:আপনার কাজ,কথাবার্তা, আচরণের মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।নিজেকে ভালভাবে তৈরি করুন।এটা উপলব্ধি করুন যে,আপনি নিজে ভাস্কর্য এবং নিজেই ভাস্কর।আপনি চিত্র এবং আপনিই চিত্রকর।আপনি যেভাবে চান,সেভাবেই নিজের ব্যক্তিত্বকে গড়ে তুলতে পারেন।






223 views0 comments