ছাদ বাগান

Updated: Nov 2, 2020

আমাদের ঢাকা শহরে আজকাল অনেক বাসার ছাদে ছোট বাগান করা হচ্ছে। এতে করে যেমন বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় তেমনি নিজের পরিবারের জন্য কিছু অর্গানিক ফল-মূলও পাওয়া যায়। তবে ছাদ বাগানের ক্ষেত্রে কিছু মূল্যবান তথ্য নিজের বিবেচনায় রাখা উচিত।

ছাদে লাগানো কাঠগোলাপ গাছ

ছাদের ধারণ ক্ষমতা :

প্রথমে, আপনার ছাদের ধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করুন।আপনার ছাদের কাঠামো কতটা ওজন বহন করতে পারে, তা জানা খুব জরুরি; ধারন ক্ষমতার উপর ভিত্তিকরে গাছপালা, গাছের পাত্র, আসবাব ও বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত করুন। আমরা আমাদের দেশে হয়তো বাড়ির ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি বিবেচনা করি না, কিন্তু করাটা খুব জরুরি। আপনি এই ক্ষেত্রে আপনার পরিচিত কোনো সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর সাহায্য নিতে পারেন।


সূর্যের আলো পর্যবেক্ষণ :

আপনার বিল্ডিংয়ের সূর্যের আলো কোথায় বেশি পরে তা পর্যবেক্ষণ করুন। সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যায় সূর্যের উপর নজরদারি করার চেষ্টা করুন এবং সারা দিন জুড়ে সূর্যের আলো কোথায় কেমন পরে, তা খেয়াল করার চেষ্টা করুন। গাছের উপর নির্ভর করে আপনার ছাদ বাগানে দিনে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা সূর্যের আলো প্রয়োজন হবে।

মাটি চেয়ে ছাদে বাতাস সাধারণত বেশি শক্তিশালী হয়, বিশেষত যদি আপনার বিল্ডিং বেশ উচ্চতর হয়। খুব বেশি বাতাস হলে এতে গাছের ক্ষতি বা এমনকি মারাও যেতে পারে। তাই ছাদে এমন গাছ লাগান, যা তীব্র বাতাস এবং প্রচুর সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে; উধারণস্বরূপ: পেঁপে, ড্রাগন ফল, পেয়ারা এবং শাকসবজির গাছ। তবে ছাদে এমন গাছ লাগানো উচিত না, যার শিকড় খুব বেশি ছড়ায়; যেমন : সুপারি গাছ।


পাখি- বা প্রজাপতির ফিডার :

ছাদবাগানে দেশীয় গাছ লাগানো সবচেয়ে ভালো। কারন এরা সহজে যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। ছাদ বাগানে পাখি- বা প্রজাপতি ফিডার/খাবার পাত্র রাখতে পারেন , এতে করে বাগানে পাখি- বা প্রজাপতি বেশি আসবে, পরাগায়ন করবে এবং এতে ফলন বেশি হয়।


রুফ গার্ডেন ডেকোরেশন:

আপনি যদি আপনার রুফ গার্ডেনে ফল গাছ না লাগিয়ে, সৌন্দর্যের জন্য রুফ গার্ডেন করতে চান, তাহলে আমাদের নিচের টিপসগুলো ফলো করতে পারেন

  • সৌন্দর্যের জন্য রুফ গার্ডেন করতে চাইলে ছাদে অনেক গাছ না লাগিয়ে একটু খোলামেলা রাখার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে কোয়ান্টিটির উপর ফোকাস না করে কোয়ালিটির উপর ফোকাস করতে হবে। অবশ্যই চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখতে হবে।

  • যদি আপনার বাড়ির ছাদের আশেপাশের দৃশ্য এত সুন্দর না হয়, সেক্ষেত্রে এমন গাছ লাগান যাএকটু লম্বা হয়। দেখতে বেশি সবুজ এবং বাড়ির চারপাশ কম দেখা যাবে। এইক্ষেত্রে ছোট বাঁশ গাছ, দোলনচাঁপা, বাগান বিলাসী গাছ লাগাতে পারেন।

  • আপনি ইচ্ছা করলে চা / বিকেলের স্নাক্স খাবার জন্য ছাউনির ও ব্যবস্থা করতে পারেন। ছাউনি ক্ষেত্রে আপনি কৃষ্ণচূড়া অথবা কাঠবাদাম কাছ ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে , যেখানে আপনি ছাউনির গাছ লাগাবেন , সেই জায়াগাটা যেন মজবুত হয় এবং ছাদের কোনো ক্ষতি না হয়। ছাদে বসার জন্য জুলন্ত দোলনা ও দিতে পারেন।

ছাদে লাগানো কৃষ্ণচূড়া গাছ
  • লাইটিং এর ক্ষেত্রে কৃপণতা করা যাবে না। সন্ধ্যার সময় আপনার ছাদ বাগানে যেনো পরিমাণমতো লাইট এর ববস্থা থাকে বিশেষত সিঁড়ি বা দরজার কাছে। ছাদে পর্যাপ্ত আলো থাকলে সন্ধ্যার সময় এটি আরও বড় ও সুন্দর দেখায়।

  • আপনার ছাদে বসার ফার্নিচার, দেয়াল, মেঝে ও রেলিং এর রং ব্যবহার এর ক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যেন দুই থেকে তিন ধরনের বেশি রং ব্যবহার না হয়। সাদা, ধূসর,রঙের মতো নিরপেক্ষ রংগুলি গাছের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ছাদে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে যেই জিনিসগুলো খেয়াল রাখতে হবে:

  • গাছের পাতা এবং ডাল-পালা যেনো ছাদের পানির পাইপলাইন আটকে না যায়।

  • ছাদ বাগানের কারনে ফাঙ্গাস / শেওলা পরে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ব্লিচ দিয়ে ছাদ পরিষ্কার করলে ফাঙ্গাস / শেওলা পরিষ্কার হয়।

  • গাছে পানি দেবার পর যেনো সেই পানি যাবার রাস্তা থাকে


আমাদের আর্টিকেল ভালো লাগলে, দোয়া করে শেয়ার দিন এবং আমাদের পেজ এ লাইক দিন যেন প্রতিনিয়ত আর্টিকেল দেখতে পারেন।

https://www.facebook.com/5minssolution/

















236 views0 comments