প্রসাধনী ছাড়া ত্বকের যত্নের ১১টি উপায় (প্রথম পর্ব)

বর্তমান যুগে ত্বকের চর্চায় প্রসাধনী শিল্প ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়।প্রকৃত অর্থে এসব প্রসাধনী পণ্য কেনা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।কারণ এসব পণ্য আমাদের ত্বকের কোন সমস্যার সমাধান করে না। তাই নিজের ত্বকের যত্নে নিম্মক্তো পন্থা গুলো অবলম্বন করুনঃ

১.অতিরিক্ত সূর্যলোক পরিহার করুনঃ

সূর্যালোক আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্ষতি করে। প্রায় ৯০% ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার কারণ সূর্য রশ্মি। বিশেষ করে পাতলা ত্বকের জন্য সূর্যালোক খুবই ক্ষতিকর।এছাড়া অতিরিক্ত সূর্যালোকের প্রভাবে ত্বকের ক্যানসার হয়। যদি আপনাকে দিনের অনেকটা সময় সূর্যের আলোতে সরাসরি আসতেই হয় তবে কিছু নিয়ম মেনে চলুন।যেমন প্রতিবার বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। যাতে আপনার ত্বক সূর্যের অতিরিক্ত বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পায়।চোখের সুরক্ষায় সানগ্লাস ব্যবহার করুন।কেননা চোখ হচ্ছে ত্বকের এমন এক সংবেদনশীল অঙ্গ যেখানে সরাসরি সানস্ক্রিন লাগানো সম্ভব না। আবার অতিরিক্ত সূর্যালোকে বেশিক্ষণ চোখ কুঁচকে তাকানো কোন সমাধান নয়।বরং বেশি সময় চোখ কুঁচকে তাকালে চোখের চারপাশের চামড়ায় অযাচিত ভাজ পড়ে।


২.সিল্ক অথবা স্যাটিন কাপড়ের বালিশের কভার ব্যবহার করুনঃ


মানুষ একটি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে কাটায়।ঘুমানোর সময় মুখের চামড়ায় যেন অযাচিত ভাজ না পড়ে সেই চেষ্টা করা উচিত। আপনি যদি একপাশে কাৎ হয়ে ঘুমান তাহলে মুখের ত্বকে বালিশের চাপে ভাজ পড়ার সম্ভবনা থাকে। এই সমস্যা এড়াতে বালিশে সিল্ক অথবা স্যাটিনের কভার ব্যবহার করুন। এতে পিচ্ছিল কাপড়েও ভাজ পড়বে না আবার ত্বকেও ভাজ পড়বে না। এছাড়াও সিল্কের বালিশের কভারে শুলে চুলে জট বাঁধে না এবং চুল সিল্কি হয়।

৩.প্রচুর পানি পান করুনঃ

পানি মানব দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। যদিও পানি সরাসরি ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ায় না তবে সমস্ত শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। পানি লিভারের দূষিত পদার্থ নির্গমনে সহায়তা করে। শরীরের ফোলা ভাব কমায়।কিডনির কাজে সাহায্য করে। চোখর চারপাশের কালো দাগ কমায়।এমনকি একজিমা রোধ করে। আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছেন কিনা কিভাবে বুঝবেন?আপনার প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন।যদি সেটা গাড় পীত রঙের হয় তবে অবশ্যই পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান।আর যদি প্রস্রাবের রঙ লেবুর রসের মতো হয় তবে বুঝতে হবে সব ঠিক আছে।


৪.চিনি পরিহার করুনঃ

কখনও কখনও ত্বকের উপর গত সপ্তাহের খাবারও প্রভাব ফেলে।আপনি যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিনি কিংবা কার্বোহাইড্রেট খেয়ে থাকেন তবে সেটা আপনার শরীর ও ত্বকে ফুটে উঠবে। অতিরিক্ত চিনি কিংবা কার্বোহাইড্রেট শরীরের নিজস্ব পরিপাক পদ্ধতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।অতিরিক্ত চিনি শরীরে ইনসুলিন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীরে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। যেমন আপনি খেয়াল করলে দেখবেন আপনার ত্বক রোদে গেলে অস্থিরতা বোধ করছে কিংবা রক্ত সঞ্চালনা বেড়ে যাচ্ছে, ব্রণ হচ্ছে কিংবা চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে যে খাদ্যের আধিক্য এর কারণে এমন হচ্ছে সম্ভব হলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করুন।


৫.মুখে অযথা স্পর্শ করবেন নাঃ

ময়লা হাতে বারবার মুখের ত্বক স্পর্শ করলে ব্রণের পাশাপাশি ত্বকের স্হায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। প্রথমে ত্বকে এক ধরনের ব্রণ হয় যাকে মেকানিকা বলে।যা হাতের স্পর্শে, মুখের তেল ও ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে মুখের ছিদ্র গুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ঘন ঘন মুখে ব্রণ হয়। এক সময় ব্রণ গুলো স্হায়ী দাগ করে ফেলে।


৬.উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল ও মুখ ধুবেনঃ

গোসল কিংবা মুখ ধোয়ার জন্য উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। আমাদের ত্বক থেকে মোম এর মতো এক ধরনের তেল বের হয়। উষ্ণ গরম পানি সেই তেল গুলোকে গরম করে এবং ত্বকের গভীর থেকে বের করে আনে।তাই ত্বকের যত্নে আপনার ক্লিনজারটি ১ মিনিট মুখে ঘষুন এরপর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।





208 views0 comments

5-MinsSolution

Contact us

Tel: +8801713221592

Dhaka, Bangladesh

  • Facebook

Follow us on Facebook