কিভাবে পারিবারিক মনোমালিন্য মোকাবেলা করা যায়?

Updated: Nov 18, 2020


মৃত্যু, আসক্তি,অর্থ সংকট,মানসিক অসুস্থতা, বিচ্ছেদ / বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং কঠিন সময়ে সমন্বয়ের অভাব সবকিছু একটি পরিবারের সদস্যদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।যখন পরিবারের উপর এই কঠিন ধকল যায় অথবা তীব্র দুঃখে জর্জরিত অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার উপায় থাকে না, তখন এই সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করা যায় না। এর ফলে বিবাদ, দুশ্চিন্তা এবং অসন্তোষ তৈরি হয়। পারিবারিক এ দ্বন্দ্ব পরিবারের প্রত্যেককে প্রভাবিত করে। কিছু কার্যকরী কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে পারিবারিক এ সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করা যায়…..


কার্যকরী কৌশলের মাধ্যমে সমাধানঃ


একসাথে বসে কথা বলার জন্য একটি সময় স্থির করুন। পারিবারিক সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হওয়া এবং মোকাবিলা করা অসম্ভব মনে হতে পারে কিন্তু যখন আপনি একসাথে বসবেন তখন এ বিষয়টি সহজ হয়ে ওঠে। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথম পদক্ষেপটি হলো, পরিবারে যে সমস্যা রয়েছে সে সম্পর্কে সকলের একমত হওয়া। তারপর মানসিক অবস্থা শান্ত হলে সকলে মিলে পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কৌশল বের করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে যে, ছোট বাচ্চারা পারিবারিক এ আলোচনার মধ্যে বাঁধা হয়ে দাড়াঁতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি উত্তেজিত মেজাজে কোন কিছু নিয়ে আলোচনা করবেন বলে মনে করেন তবে বাচ্চাদের একটি আলাদা রুমে রাখতে পারেন। চিকিৎসাবিদগণ নিয়মিত পারিবারিক সভার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবার পূর্বেই সমস্যাগুলো সকলের সামনে প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি হয়। আর এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় এবং পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয়।


  • যে সমস্যাটি সামনে রয়েছে তার দিকেই প্রথমে নজর দিতে হবে। যখন মতভেদ দেখা দেয়, তখন দেখা যায় পূর্বের যে কোন অমীমাংসিত সমস্যা যা নিয়ে অপর পক্ষের সাথে পূর্বে বিরোধিতা হয়েছে তা সামনে নিয়ে আসে। এর ফলে চলমান সমস্যা সমাধানে বাধাঁ সৃষ্টি হয় এবং মূল সমস্যাটি পেছনে পড়ে যায়। তাই বর্তমান সমস্যাটি কি সেটি বের করাই হলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সমস্যা তৈরি করা এবং পুরোনো তিক্ততাগুলোকে সামনে নিয়ে আসা আপনাকে চলমান সমস্যা সমাধানে কোনভাবে সহায়তা করবে না।

প্রত্যেককেই ব্যাখ্যা করতে হবে যে সত্যিকার অর্থে তারা কি বোঝাতে চায়। কার্যকর সংঘাত নিরসনের জন্য প্রত্যক্ষ যোগাযোগ জরুরি। কোন বাধাঁ না দিয়ে মনযোগ দিয়ে প্রত্যেকের মতামত শুনুন।পারিবারিক মতবিরোধ সমাধানের ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মনযোগ সহকারে কথা শোনা জরুরি। প্রত্যেক পক্ষের কথা মনযোগ সহকারে শোনার মাধ্যমেই আপনি বুঝতে পারবেন তারা কি বোঝাতে চাচ্ছে। কোন ব্যাক্তির কথা বলার ধরন,তার অঙ্গ-ভঙ্গি এবং বাধাহীনভাবে মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে এটি ভালোভাবে বোঝা যায় যে সে কি বোঝাতে চায়। অন্য পক্ষ যখন আপনাকে একজন সক্রিয় শ্রোতা হিসেবে বিবেচনা করে তখন তারা আপনার মতামত শুনতেও উৎসাহিত হয় এবং অযৌক্তিক আবেগকে এড়িয়ে চলে, যা পারষ্পরিক সম্পর্ক পূর্নগঠনে সাহায্য করে।


  • প্রতিটি ব্যাক্তির নিজস্ব দৃষ্টিকোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এটি প্রমান করে যে আপনি তার চিন্তাধারা,মতামত বা বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, মূল্য দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব মতামত ভিন্ন হতেই পারে।


  • সকলে একত্রিত হয়ে একটি সমাধানের সিদ্ধান্ত নিন। সকলে তাদের চাওয়া পাওয়া এবং উদ্বেগগুলো প্রকাশ করার পর একটি সমঝোতায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। সকল পক্ষের মতামত বিবেচনা করুন এবং একটি মাঝামাঝি অবস্থান ঠিক করুন। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের উচিত ঐ সমাধানটিতে একমত হওয়া। যদি প্রয়োজন হয়, কিভাবে সমস্যাটি সমাধান করলে ভালো হয় সে সম্পর্কে একটি লিখিত নিয়ম বা খসড়াও তৈরি করতে পারেন।


  • কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি আপনি নিজে সমস্যার সমাধান করতে না পারেন,সেক্ষেত্রে আপনি একজন পারিবারিক পরামর্শক এর সাহায্য নিন যিনি আপনাকে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেন।




সম্পর্কের বাধাগুলো সনাক্ত করাঃ

সম্পর্কের বাধাগুলো সনাক্ত করা

পারিবারিক সমস্যায় পরিবারের বিভিন্ন সদস্য কিভাবে সমস্যায় পতিক্রিয়া জানাতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন হন।পারিবারিক সমস্যা নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে,অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রতিটি সদস্য কিরুপ পতিক্রিয়া দেখায় তার পার্থক্য লক্ষ করা। এবং এই পার্থক্যগুলো অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত যাতে করে সমস্যা সমাধানে প্রত্যেকে সচেতনভাবে মতামত প্রকাশ করে।



  • মেনে নিন এবং আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন। নিজের এবং অন্যের অভিজ্ঞতা উপলব্ধির জন্য আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। যদি আপনি বুঝতে না পারেন যে আপনার কেমন লাগছে তবে আপনি আপনার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না এবং মতবিরোধ চলাকালীন সময়ে আপনার মতামত ও সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারবেন না।


  • অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।সমস্যার কারন হিসেবে কাউকে অভিযুক্ত করার ফলে ব্যাক্তিটি কেবল প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।সব সময় চেষ্টা করুন সমস্যাকে অভিযুক্ত করতে ব্যাক্তিকে নয়। কোন ব্যাক্তির কাজকে পছন্দ না করেও আপনি তাকে সম্মান, শ্রদ্ধা বা ভালবাসতে পারেন








129 views0 comments