ব্রেকআপের পর করণীয়:মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত

Updated: Oct 29, 2020


হ্যা, ভালবাসা মানুষকে কষ্ট দেয়। কিন্তু এই কষ্ট সারাজীবন থাকে না। কোনকিছুই মানুষকে এতটা হতাশাগ্রস্ত করে না যতটা খারাপভাবে শেষ হওয়া সম্পর্ক করে। রম-কমস এবং সিটকমস একটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন, কীভাবে ব্রেকআপ কাটিয়ে উঠা যায়: দু:খের সিনেমাগুলো দেখা,কান্নার সময় এক বাটি আইসক্রিম খাওয়া, সহজ স্বাভাবিকভাবে সময় অতিবাহিত করা ইত্যাদি।


আপনি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি! কিন্তু বাস্তবতা হল, আপনি দেখতে পাবেন আপনি খারাপ অভ্যাসগুলো গ্রহণ করেছেন, আপনার বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, কাজকে অবহেলা করা এবং সাধারণত নিজের যত্ন না নেওয়া। আপনার মনে হবে সমুদ্রে যেমন অনেক মাছ আছে তেমনি আপনার জীবনে সব মানুষকে আপনি চিনে ফেলেছেন।


কিন্তু ব্রেকআপ কাটিয়ে উঠা এত কঠিন কেন? এর উত্তর: ভালবাসা এক ধরণের নেশা বা আসক্তি। "কাঠামোগত মস্তিষ্ক দেখায় যে ভালবাসা এক প্রকার আসক্তি",বলেছেন গাই উইন্স,পিএইচডি,মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং 'কীভাবে একটি বিদীর্ণ হৃদয় ঠিক করা যায়'(How to fix a Broken Heart) গ্রন্থের লেখক। আমরা নির্দিষ্ট একজন মানুষ এবং তার সাথে সম্পর্কে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। এই সময় ব্রেকআপ হলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি এবং আমাদের চরিত্রের বিপরীত আচরণ করি যেরকম একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ করে। আপনি অন্য একজন মানুষের মত করে আপনার জীবন অতিবাহিত করেন যা বাস্তবে আপনিনা। একইভাবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো বিসর্জন দেন এবং নিজের জীবনটা যেভাবে তৈরি করেছেন সেটা পরিবর্তন করেন, যেটা মোটেই সহজ নয় এবং সঠিক নয়।


বলা হয়ে থাকে অনেক উপায় আছে মানসিক অবস্থা ভাল রাখার যাতে আপনি নিজেই সুখ খুঁজে পেতে পারেন (এবং একইসাথে আপনার জীবনের ভালবাসা)। আমরা সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম কীভাবে ব্রেকআপ কাটিয়ে উঠা যায় সে সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল উপায়গুলো বলার জন্য এবং এখানে কিছু সহজ পদক্ষেপ দেওয়া হলো, যেগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন-


১.পুনরায় নিজেকে সম্মান করা:


যদি আপনার সঙ্গী ব্রেকআপ করে, আপনি সাধারণত আপনার শারীরিক আকার ও ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলোর ত্রূটি খুঁজতে থাকেন এবং প্রশ্ন করতে থাকেন আপনার কোন অংশের ত্রূটির জন্য একজন আপনার সাথে ভালবাসার সম্পর্ক ত্যাগ করল। "আপনি আপনার জন্য কতটা মূল্যবান সেইদিকে দৃষ্টি দিন এবং কোন গুণগুলো আপনার নেই সেটা না ভেবে বরং সম্পর্ক থেকে কি পেয়েছেন সেটা চিন্তা করুন",বলেছেন উইন্স। একটা তালিকা তৈরি করুন আপনার চরিত্র, আবেগ, শক্তি, যোগ্যতা এবং যেকোন গুণ সম্পর্কে যা একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যদি আপনার কঠিন সময় আসে,আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের এবং পরিবারকে বলুন। এতে করে তারা যেসব কারণে আপনাকে তাদের জীবনে পেয়ে ভাগ্যবান মনে করে সেটা বলার সুযোগ পাবে।


২.নতুন তিনটি জায়গা ভ্রমণ :


এটি এমন একটি কাজ যা মেরি জো রেপিনি, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেখক, তার সব রোগীদের দিয়েছেন প্রাণঘাতী হতাশা কাটিয়ে উঠার জন্য। তার মতে, "প্রথমে সপ্তাহে একদিন, আপনি একটি কফির দোকান বা রেস্টুরেন্ট খুঁজে বের করুন, যেখানে আপনি আগে কখনো যাননি এবং কমপক্ষে একজন বন্ধুকে আপনার সাথে সেখানে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান"। এর লক্ষ্য হল আপনার নিয়মিত রুটিন থেকে বের হয়ে এসে জীবনে একটু বৈচিত্র্য নিয়ে আসা এবং আপনার আগের সঙ্গীর সাথে আপনি সবসময় যেসব জায়গায় গিয়েছেন সেগুলো থেকে দূরে থাকা। এটা একটা সুযোগও আপনার বন্ধুদের সাথে সুন্দর সময় কাটানোর।


৩.সত্যিকার স্মৃতি গ্রহণ করা:


যখন আপনার মন সবসময় ভাবতে থাকে এবং আপনাদের দুজনের কাটানো সুন্দর সময় সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে, আপনি সম্ভবত সম্পর্কের খারাপ অংশটা ভুলে যান। "আপনার প্রথমেই মনে হতে পারে 'ওহ, সেই ছুটিটা অনেক সুন্দর ছিল'। আপনি মনে করে দেখুন কীভাবে আপনারা ২৪ ঘন্টা কথা বলেননি কারণ বিমানে আপনাদের ঝগড়া হয়েছিল", বলেছেন উইন্স। আপনি মনে করে দেখুন প্রতিটি ভ্রমণে যাওয়ার আগে আপনি কতটা চিন্তিত ছিলেন, কারণ আপনার সঙ্গী কখনো ঠিক সময়ে এয়ারপোর্টে আসত না। অন্যভাবে বলা যায়, আপনার সঙ্গীর যেসব নেতিবাচক বিষয় ছিল সেগুলো লক্ষ্য করুন, কারণ আপনার মন শুধুমাত্র পজিটিভ বা ভাল বিষয়ের প্রতিই জোর দিচ্ছে। সত্যিকার ধারণাটা মনের মধ্যে রাখুন।"



৪.নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো লিখে ফেলা:


উইন্স এর মতে, "একটি তালিকা তৈরি করুন যেসব কারণে মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিল না। এছাড়া, তার প্রতিটি বিরক্তিকর স্বভাব সম্পর্কে চিন্তা করুন, একইসাথে আপনি সম্পর্কের জন্য যেসব সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছিলেন সেগুলোও চিন্তা করুন। এই তালিকাটা আপনি আপনার মোবাইলে রেখে দিন। যখনই আপনি চিন্তা করতে শুরু করবেন লোকটি আপনার জন্য সঠিক ছিল তখনই তালিকাটা দেখতে পারবেন। সঙ্গী এবং সম্পর্ক উভয় বিষয়ে সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য একটি সহজ একটি উপায়।"


৫.সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরতি:


অনেক সময়, আপনার সাবেক সঙ্গীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনফলো করেও তার উপস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে না। কারণ আপনার অনেক মিউচুয়াল বন্ধু রয়েছে (যারা আপনার সাবেক সঙ্গীরও বন্ধু)। যদি এরকম হয়, তাহলে আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে ফেলুন। অবশ্যই, এটা সবকিছু ছেড়ে চলে যাওয়া বোঝায় না। রেপিনি পরামর্শ মতে, "আপনার বন্ধুকে দেখুন যে তার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে খুশিতে মগ্ন অথবা আপনার বাবা-মাকে ফোন করুন"। অন্যের খুশি দেখে বা ভাগ করে নেওয়ার মাঝে এক ধরণের আনন্দ আছে। যখন আপনি এ সবকিছু করবেন আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরত্ব তৈরি করতে পারবেন। আপনার ভাল বন্ধুরা আপনার সাথে আড্ডা দিবে, তারা আপনাকে বুঝতে পারবে। তাই তাদেরকে জানতে দিন আপনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন এবং সবচেয়ে ভাল হয় তারা যদি আপনাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করে।


৬.শেষ করা:

আপনি জানেন জীবন কোন ছেলেখেলা নয়, তবুও আপনার নাটকীয় ব্রেকআপের অভিজ্ঞতা হয়। যেমন-'সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছিল' অথবা 'সে তার বন্ধুর সাথে গোপনে ভালবাসার সম্পর্ক রেখেছিল' এসব ঘটনার জন্য সঙ্গীকে ছেড়ে সরে যেতে হয়। দূর্ভাগ্যবশত যা ঘটে তাতে দুজন মানুষ আস্তে আস্তে পৃথক হয়ে যায় এবং এই বিভক্তির পর একজন আরেকজনককে ছেড়ে চলে যায়। একটা বিষয় আপনার বোঝা প্রয়োজন সম্পর্কটা মন থেকে শেষ করা দরকার নয়তো আবার একসাথে হওয়ার ইচ্ছা জাগে। এই বিষয় নিয়ে উইন্স বলেছেন, “এখানে একটা কল্পনা হয় যে,আপনি যদি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন আপনার জীবন সম্পর্কে আপনি এমন কিছু খুঁজে পাবেন যে, যা ঘটেছে তা আপনি বাতিল করে পুনরায় আপনার সঙ্গীর সাথে থাকতে পারবেন"। সবচেয়ে সঠিক বিষয় হল আপনি যে আপনার সঙ্গীর সাথে নেই এটা মেনে নেওয়া। যদি সে যোগ্য হত তাহলে কেন সে আপনার সাথে থাকতে চায়নি, নিজেকে বলুন আপনার সাবেক সঙ্গী অঙ্গীকার করেনি অথবা আপনাকে যথেষ্ট ভালবাসেনি, এই বিশ্লেষণগুলো আপনার দরকার এই অধ্যায়টা পুরোপুরিভাবে শেষ করার জন্য। এই বিশ্লেষণগুলোর মূল বিষয় হলো "এমন কেউ আমার প্রাপ্য বা যোগ্য যে আমাকে অঙ্গীকার করবে,আমাকে যথেষ্ট ভালবাসবে এবং আমার সবকিছুর প্রশংসা করবে।"


৭.আবদ্ধ অবস্থা থেকে বের হওয়া:


যেসব জায়গায় সবসময় আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে গিয়েছেন, সেখানে একা যাওয়াটা হয়তো আপনি সহ্য করতে পারবেন না। কিন্তু সবসময় সঙ্গীর সাথে সব জায়গায় যাওয়াটাই যে সঠিক তা কিন্তু নয়। রেপিনি বলেছেন, "আমি দেখেছি কিছু লোক অনেক কাজ ছেড়ে দেয় যেমন-চার্চে যাওয়া অথবা স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করা ইত্যাদি। কারণ এগুলো তারা তাদের সঙ্গীর সাথে করেছিল। এছাড়া, আপনি সত্যিই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন কাজগুলো করার মাধ্যমে একইসাথে এই কাজগুলো নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করবে। এটা সম্পূর্ণটাই সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলা"।











268 views0 comments

5-MinsSolution

Contact us

Tel: +8801713221592

Dhaka, Bangladesh

  • Facebook

Follow us on Facebook